শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

দায়ী পুরো সভ্যতাই

বর্তমান সভ্যতার এক ঝলমলে নায়ক হলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার পরও তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে পারেন। যদিও তার ভাষণের সময় কয়েকশত কূটনীতিক প্রতিবাদ জানিয়ে অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান। কি নেই বর্তমান সভ্যতায়! পরাশক্তিবর্গ আছে, জাতিসংঘ আছে, নেতানিয়াহু আছে, প্রতারণামূলক বক্তব্য রাখেন, চাতুর্য আছে, যুদ্ধাপরাধ আছে, মজলুম আছে; তবে নেই একটি à¦¬à¦¿à¦·à§ŸÑ à¦­à§‚à¦®à¦¿à¦ªà§à¦¤à§à¦° ফিলিস্তিনীদের স্বদেশে স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার। এই অপরাধের জন্য দায়ী কে? অপরাধটা কি শুধু ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের? পুরো সভ্যতাকে এই অপরাধের জন্য দায়ী করলে কি কোনো ভুল হবে?

এমন কথা বলার কারণ আছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় দুটি মানচিত্র দেখিয়েছেন। শুক্রবারের ওই ভাষণের সময় দেখানো দুটি মানচিত্রের কোথাও ছিল না ফিলিস্তিন। এনডিটিভি জানায়, একটি মানচিত্রে সবুজ রঙ দিয়ে কিছু দেশকে ‘আশীর্বাদ’ এবং আরেক মানচিত্রে কালো রঙ দিয়ে কিছু দেশকে চিহ্নিত করে ‘অভিশাপ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আর দুই মানচিত্রে যে বিষয়টি স্পষ্ট ছিল, তা হলো ফিলিস্তিনকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা। সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহুর ডান হাতে থাকা মানচিত্রে কালো রঙে চিহ্নিত ‘অভিশপ্ত’ দেশগুলো হলো- ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইয়েমেন। যার মানে হলো, এ দেশগুলো ইসরাইলের জন্য হুমকি। আর নেতানিয়াহুর বাঁ হাতে থাকা মানচিত্রে সবুজ রঙে চিত্রিত ‘আশীর্বাদ’-এর দেশগুলো à¦¹à¦²à§‹Ñ à¦®à¦¿à¦¶à¦°, সৌদি আরব, সুদান এমনকি ভারতও। যার মানে হচ্ছে, এ দেশগুলো ইসরাইলের জন্য হুমকি নয়।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, যুদ্ধাপরাধী নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যা ইচ্ছে তা-ই বলতে পারছেন। তিনি মানচিত্র প্রদর্শন করছেন এবং সেই মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিনকে মুছে ফেলছেন। তিনি নির্বিবাদে রঙেরও ব্যবহার করছেন। সবুজ রঙ দিয়ে কাউকে আশীর্বাদ দিচ্ছেন এবং কালো রঙ দিয়ে অভিশপ্ত করছেন কাউকে কাউকে। তিনি এসবই করছেন বিশ^নেতাদের সামনে। কাউকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছেন না। পরাশক্তিবর্গও সেখানে প্যারালাইসড। আসলে ওদের গুরুত্ব দেওয়ার তো কোনো কারণ নেই। কোনো কোনো পরাশক্তির সাহায্য ও সমর্থনেই তো বছরের পর বছর ধরে ফিলিস্তিনীদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে ইসরাইল। আর বাকিরা কার্যত রয়েছে নীরব। অনেকে এটাকে নীরব সমর্থন বলে অভিহিত করছেন। এমন বাস্তবতায় এখন অনেকেই বলছেন, ফিলিস্তিনীদের অদিকার বঞ্চিত রাখার জন্য পুরো বিশ্ব  তথা সমগ্র সভ্যতাই দায়ী। এমন অপরাধী সভ্যতায় মানুষ ন্যায় ও মানবিক আচরণ পাবে কেমন করে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ